প্রতিবেদন

নোয়াখালীতে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসার বেহাল দশা

নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। অধিকাংশ প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে রয়েছে অপচিকিৎসার অভিযোগ। এদের অপচিকিৎসার যাঁতাকলে পড়ে অযথা নানা ভূয়া টেষ্টের ফাঁদে নিঃস্ব হয় সাধারণ রোগীরা। সরকারের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এসব প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না বলে জেলার সচেতন মহল অভিযোগ করেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে হাতে গোনা ১১টি। নিয়মানুযায়ী প্রাইভেট হাসপাতাল বা ক্লিনিকের লাইসেন্স পেতে তিনজন ডাক্তার, ৬ জন ডিপ্লোমা পাস নার্স, ৩জন আয়া, ২ জন ওয়ার্ড বয়, ১ জন ম্যানেজার, সুইপার ও ঝাড়–দার সার্বক্ষণিক থাকতে হবে। আর ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের জন্যে ডাক্তার ছাড়াও পাস করা টেকনেশিয়ান থাকা বাধ্যতামূলক। হাতেগোনা দু’একটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ডাক্তার ও পাস করা নার্স না থাকলেও অধিকাংশই এ নিয়ম রেখার বাইরে। তারা কাগজে কলমে ৩ জন ডাক্তার, ৬ জন নার্স ও অন্যান্য শর্ত পূরণ দেখিয়ে সিভিল সার্জন অফিস থেকে লাইসেন্স নিয়ে থাকে। এরপর প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক খুলে বাণিজ্য শুরু করে দেয়। সময়মত এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভাল ডাক্তার থাকে না। রোগী ভর্তি শেষে ডাক্তার কল করে আনা হয় বাহির থেকে। প্রশিক্ষণহীন কর্মচারীদেরকে মেয়েদের এ্যাপ্রোণ পরিয়ে পরিচয় দেয়া হয় নার্স হিসেবে। কোন কোন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মালিক বা ম্যানেজার ডাক্তার সাজেন। অনেক ক্লিনিকে বা হাসপাতালে শুধুমাত্র এমবিবিএসদের বিশেষজ্ঞ সাজিয়েও সাধারণ মানুয়ের পকেট কাটা হয়। এমনকি অপারেশন পর্যন্ত করে থাকেন। বিভিন্ন হাসপাতালে ও ক্লিনকে ভুল বা অপচিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটেছে। নানা অনিয়মের পরও টাকার জোরে পার পেয়ে যায় তারা। বেশ কয়েক দিন আগে প্রাইম হাসপাতালে জনৈক প্রসূতির সন্তান প্রসবকালে সদ্যজাত সন্তানকে দেয়া স্যালাইনে শ্যাওলা পর্যন্ত ধরা পড়েছে। এমন ঘটনা নোয়াখালীর প্রায় প্রাইভেট হাসপাতালে হয়ে থাকে অহরহ। প্রতিকার হয় না। সাইন বোর্ডে নাম-ডাক থাকা এসব হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যয়ভারও বেশি। প্রতিদিনের জন্য সাধারণ বেড ৪ শত টাকা এবং কেবিন ভাড়া হাজার টাকা। রোগীর প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে কল দিলে প্রতিবার কলের জন্য ৪ শত টাকা করে ফি দিতে হয়। সরকারি হাসপাতালের জুনিয়র ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডাক্তার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে এ্যাটেন্ড করেন। এরপর প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরির পরীক্ষা নিরীক্ষার নামে ব্যবসা চলছে রমরমা। ল্যাবরেটরিতে পাস করা টেকনিশিয়ান থাকা আইনত বাধ্যতামূলক হলেও হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া বেশিরভাগ ল্যাবে পাস করা টেকনেশিয়ান নেই। হাতুড়ে টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজ চালানো হয়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয় না। নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডাঃ নুরুল ইসলাম বেসরকারি হাসপাতালের অনিয়ম স্বীকার করে জানান, অধিকাংশ প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক আইন-কানুনের ধারে কাছে থাকলেই প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক চলতে পারে না।

 
     
lbheading